আসন্ন রমজানের আগে দেশের বাজারে খাদ্যপণ্যের দাম সহনীয় রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী নেতারা। বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে গতকাল এক বৈঠকে এ প্রতিশ্রুতি দেন তারা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
সরকার মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। বিশেষ করে মূল্যস্ফীতি ৫ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনতে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ উদ্দেশ্যেই পণ্য সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বৈঠক শেষে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর জানান, বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক নীতিগত সব ধরনের সহায়তা দেবে। তিনি বলেন, ‘শিল্প ও বাণিজ্য খাতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা হবে, যাতে আমদানি জটিলতা কমে এবং মজুদ ও বাজারে পণ্যের প্রবাহ নিশ্চিত হয়।’
প্রসঙ্গত, গত দুই অর্থবছর অনেকটা স্থবির থাকার পর চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে দেশের আমদানি খাত বড় প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম মাস তথা জুলাইয়ে আমদানি হয়েছে ৬২৭ কোটি বা ৬ দশমিক ২৭ বিলিয়ন ডলারের পণ্য, যা আগের অর্থবছরের একই মাসের তুলনায় ১৯ দশমিক ৪৯ শতাংশ বেশি। আমদানির এ উচ্চ প্রবৃদ্ধিতে ভোগ্যপণ্যের ভূমিকাও অনেক বেশি বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, রমজান মাসকে কেন্দ্র করে এখন থেকেই ভোগ্যপণ্যসহ অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আমদানির জন্য এলসি খোলা শুরু হয়েছে। গত কয়েক বছর দেশে ডলার সংকট ছিল। এ কারণে ব্যবসায়ীরা চাহিদা অনুযায়ী পণ্য আমদানির জন্য এলসি খুলতে পারেননি। কিন্তু এখন দেশে ডলার সংকট পুরোপুরি কেটে গেছে। ব্যাংক খাতে উদ্বৃত্ত থাকায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার থেকে ডলার কিনে নিচ্ছে। বিনিময় হারও পুরোপুরি স্থিতিশীল। আগামীতে ডলারের বিনিময় হার আরো কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সিন্ডিকেট বা সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত না হলে এবারের রমজানে ভোগ্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল থাকবে।
বৈঠকে অংশ নেয়া মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল বলেন, ‘দেশের ভোগ্যপণ্যের মজুদ পরিস্থিতি, আমদানির প্রয়োজনীয়তা ও সরবরাহের অবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। গভর্নর চান আমদানি বাড়লেও যেন মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি না পায়। এজন্য বাজার বিশ্লেষণ ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।’
নাবিল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিনুল ইসলাম স্বপন বলেন, ‘বৈঠকে এলসি খোলার প্রক্রিয়া দ্রুত করাসহ ভোগ্যপণ্যের সরবরাহ বৃদ্ধির জন্য ধারণা দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবে। এতে এলসি জটিলতা দূর হবে ও আমদানির মাধ্যমে বাজারে পণ্য পৌঁছা সহজ হবে।’
চেইন সুপারশপ স্বপ্নের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাব্বির হাসান নাছির বলেন, ‘বর্তমানে ডলারের ঘাটতি নেই, বাজারও তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল। এ অবস্থায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ ধরে রাখার পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি কমিয়ে আনতে ও পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করার দিকে নজর দিচ্ছে।’
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাজারে পণ্য সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে হবে। এজন্য বৈঠকে বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি ও সমস্যাগুলো শোনা হয়েছে। প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানিতে সব ধরনের সহায়তা দেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সরবরাহ বৃদ্ধির জন্য এলসি খোলার ক্ষেত্রেও প্রয়োজনে সরাসরি সহায়তা করা হবে।’